Hadith Blog

  • Hadith_Riazul_Zannah

    রিয়াজুল জান্নাহ সম্পর্কিত যে ১০টি তথ্য জানা থাকা জরুরি

    মসজিদে নববির ভেতরে একটা জায়গা আছে, তার নাম রিয়াজুল জান্নাত। রিয়াজুল জান্নাত বলতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ে তৈরি করা মসজিদকে বোঝায়। মিম্বর ও হুজরাহর মধ্যবর্তী স্থান।। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এই জায়গায় সবুজ-সাদা রঙের কার্পেট বিছানো আছে। মসজিদের অন্য কার্পেটগুলো লাল রঙের। ভিন্ন রঙের কার্পেট দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না রিয়াজুল জান্নাতের সীমানা। এ স্থানে নামাজ পড়া অতি উত্তম।

    রিয়াজুল জান্নাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দশটি তথ্য। মসজিদুন নববী পরিদর্শনের পূর্বেই যেগুলো জেনে নেওয়া জরুরি। পবিত্র ভূমি সফরকালে এগুলো হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন। তাই এক নজরে জেনে নিন রিয়াদুল জান্নাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

    ১. রিয়াজুল জান্নাহ কী? মসজিদুন নববীর কেন্দ্রকেই রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়ে থাকে। এটাকে বিবেচনা করা হয় মসজিদুন নববীর সব থেকে মঙ্গলজনক জায়গা হিসেবে। জায়গাটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আলাদা আলাদা করা।

    ২. রিয়াজুল জান্নাহর ম্যাপটি দেখেছেন কখনো? অনেকেই রিয়াজুল জান্নাহর ম্যাপ নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে পড়ে যান। মসজিদে নববিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক এবং তাঁর জমানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবীজি বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন।

    ৩. নারীদের জন্য রিয়াজুল জান্নাহয় অবস্থানের সময়সীমা : দিনের সব সময় নারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত নয়। নারী-পুরুষের পরিদর্শনরে জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সময়সীমা। নারীরা জায়গাটি পরিদর্শন করতে পারেন ফজর ও এশার নামাজের পর। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা আলাদাভাবে প্রবেশদ্বার আলাদা আলাদা সময় খোলা হয়।

    ৪. রিয়াজুল জান্নাহয় দোয়া : অনেকেই এখানে পাঠ করার জন্য বিশেষ দোয়া সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে রাসুল (সা.) সবসময় এখানে দোয়া করতেন। তাই দোয়া করাটাই এখানের গুরুত্বপূর্ণ আমাল। তবে সেটা হতে পারে যেকোনো দোয়া।

    ৫. জান্নাতের বাগানসমূহের একটি রিয়াজুল জান্নাহ : তৎপর্য ও মাহাত্ম্যের বিবেচনায় রিয়াজুল জান্নাহ হলো দুনিয়ার অবস্থিত জান্নাতের বাগানসমূহের একটি।

    ৬. মসজিদুন নববীর সবুজ গালিচা : আপনি অবশ্য মসজিদুন নববীতে লাল গালিচা দেখতে পাবেন। তবে রিয়াজুল জান্নাহর বিশেষ এলাকাটুকু সবুজ গালিচায় ঘেরা। এ বিশেষ জায়গাটুকুকে বলা হয় ‘রওদা গ্রীন কার্পেট এরিয়া’।

    ৭. রিয়াজুল জান্নাহয় প্রবেশ : রিয়াজুল জান্নাহর দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। আপনি চাইলে তাহাজ্জুদের সময় এটি পরিদর্শন করতে পারেন। আবার চাইলে সকাল ৮ থেকে ১০ টার মধ্যেও পরিদর্শন করতে পারেন।

    ৮. সর্বদা দোয়া কবুল হওয়ার স্থান : এটি এমন একটি জায়গা যেখানে দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা কখনো ফিরিয়ে দেন না। যে কারণে জায়গাটি সবসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে।

    ৯. রিয়াজুল জান্নাহয় নামাজ আদায় : রিয়াজুল জান্নাহকে বলা হয় দুনিয়ায় জান্নাতের টুকরা। মুসলিমরা সবসময় ক্ষমা প্রার্থনার জন্য এখানে দু’রাকাত সলাত আদায় করার চেষ্টা করে থাকেন। আর এখানে একবার নামাজ আদায় বাইরে এক হাজারবার নামাজ আদায় করার সমতুল্য।

    ১০. আরও যে বিষয়গুলো জানা জরুরি : উল্লেখ্য, এই জায়গাটি পরিদর্শন করা হজ বা উমরা আদায়ের পূর্বশর্ত নয়। অতএব, প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে যদি আপনি এটি পরিদর্শনে ব্যর্থ হন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। শুধু দোয়া করুন, যেন আপনি এটি পরিদর্শনের তওফিক পান। দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ এখানে তাড়াহুড়ো করে। যার ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে কখনো কখনো।

    সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

    See Translation

  • Hadith_Khalifa_Harun

    খলিফা হারুন অর রশিদ পানি পান করতে যাবেন, গ্লাস ঠিক ঠোঁটের কাছে নিয়েছেন, এমন সময় হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, “আমিরুল মুমিনীন! একটু থামুন। পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।”

    খলিফা বললেন, “বলো কি জানতে চাও?”

    বহলুল (রহঃ) বললেন, “মনে করুন আপনি প্রচন্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে এমন মাঠে আছেন যেখানে পানি নাই। পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন অবস্থায় আপনি এক গ্লাস পানির জন্য কতটা মূল্য ব্যয় করবেন?”

    খলিফা বললেন, “যেহেতু পানি না পেলে আমার মৃত্যু হবে তাই আমার পুরো সম্পত্তিও ব্যয় করে দিতে পারবো।”

    হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, “ঠিক আছে এবার বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করেন।”

    খলিফা পানি পান করলেন। এবার হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, “আমার আর একটি প্রশ্ন আছে।”

    খলিফা বললেন, “বলো।”

    বহলুল (রহঃ) বললেন, “এই পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বের হয়, পেটেই জমা থাকে। প্রসাব বন্ধ হয়ে যায়, সেই পানি বের করবার জন্য কত টাকা ব্যয় করবেন?”

    -প্রসাব বন্ধ হলে তো আমি সহ্য করতে পারবো না। মারা যাবো। জীবন বাঁচাতে একজন ডাক্তার যতটা চায় ততটাই দিবো। আমার পুরো রাজত্ব চাইলেও দিয়ে দিবো।”

    হযরত বহলুল (রহঃ) বললেন, তাহলে বোঝা গেল আপনার পুরো রাজত্ব এক গ্লাস পানির দামের সমানও নয়। মাত্র এক গ্লাস পানি পান করতে বা বের করতে আপনি পুরো রাজত্বও দিয়ে দিতে চান। তাহলে কত গ্লাস পানি নিয়মিত পান করেন আর বের করেন, এটা একটু ভাবেন আর এই নেয়ামত যিনি দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করেন।”

    শরীর থেকে পানি বের করার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে অঙ্গ তাহলো কিডনি। করাচির এক ডাক্তারকে (কিডনি বিশেষজ্ঞ) একবার একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, “বিজ্ঞান এখন এতো উন্নত, আপনারা একজনের কিডনি অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন করেন তাহলে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করতে পারছেন না কেন?”

    ডাক্তারের উত্তরটি ছিলো খুবই আশ্চর্যজনক!

    তিনি বলেছিলেন, “সায়েন্সের এই উন্নতি সত্ত্বেও কৃত্রিম কিডনি তৈরি করা খুব কঠিন। কারণ আল্লাহ তায়ালা কিডনির ভেতরে যে চালনি যুক্ত করেছেন তা খুব সুক্ষ্ম এবং পাতলা। এখনো পর্যন্ত এমন যন্ত্র আবিষ্কার হয়নি যা এমন সুক্ষ্ম ও পাতলা চালনি তৈরি করতে পারে। আর যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চালনি তৈরি করাও হয় তবুও কিডনির ভেতর এমন একটি জিনিস আছে যা তৈরি করা আমাদের ক্ষমতার বাইরে। জিনিসটি হলো একটি মস্তিষ্ক (sensor)। এই মস্তিষ্ক ফায়সালা করে যে, এই মানুষের শরীরে কতটুকু পানি রাখা চাই আর কতটুকু ফেলে দেওয়া চাই। তার ফায়সালা শতভাগ সঠিক হয়।

    ফলে আমরা যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কৃত্রিম কিডনি তৈরি করেও ফেলি, তবুও আমরা এতে মস্তিষ্ক তৈরি করতে পারবো না, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রতিটি মানুষের কিডনিতে সৃষ্টি করেছেন।”

    পানি পান এবং নিষ্কাশনের প্রক্রিয়াটি খুব করে মনে পড়ে যখন সূরা যারিয়াতের ২১ নং আয়াত পড়ি। সেখানে মহান রব বলেছেন-

    “তোমরা কি নিজেদের সত্ত্বা নিয়ে কখনো চিন্তা করে দেখেছো?”

Scroll to Top